হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
বাঙালির সুদীর্ঘ কালের ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য কবি বারো ভূঁইয়াদের প্রসঙ্গ এনেছেন।
ঐতিহাসিকতার দিক থেকে দেখা যায়, ১৫৭৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর বাংলা জয় করার পরও যে কয়জন স্বাধীন জমিদার ঈশা খাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোগল শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তাঁরাই 'বারো ভূঁইয়া' নামে পরিচিত। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ঈশা খাঁ, চাঁদ রায়, কেদার রায়, প্রতাপাদিত্য, লক্ষ্মণ মাণিক্য প্রমুখ। সংগ্রামী মনোভাব ও বীরত্বের জন্য তাঁরা ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। বাঙালির এ স্বাধীনচেতা মনোভাব ও সাহসী চেতনাকে তুলে ধরতে কবি 'আমার পরিচয়' কবিতায় বারো ভূঁইয়াদের প্রসঙ্গ এনেছেন।
'আমার পরিচয়' কবিতায় অত্যাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঙালির অবস্থানের বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
বাঙালি সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যখনই তার ওপর অন্যায়-অত্যাচারের খড়গ নেমে এসেছে তখনই সে বিদ্রোহ করেছে। এভাবেই শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রতিনিয়ত তারা দৃঢ় করেছে তাদের অবস্থান। আর এই দৃঢ়তা ও সংগ্রামী চেতনার পথ ধরেই এসেছে স্বাধীনতা।
'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি বাঙালি জীবনের বাঁকে বাঁকে বিদ্রোহের যে ইতিহাস আছে তা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ নামক এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পিছনে আছে বাঙালির আপসহীন, বিদ্রোহী ও সংগ্রামী মনোভাব। তারা অন্যায়ের কাছে পরাস্ত হয়নি বলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। উদ্দীপকেও বাঙালি জীবনের এ দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করে নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। এর সর্বশেষ প্রমাণ- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। পাকিস্তানি সেনাদের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসযজ্ঞ ও অন্যায়কে বাঙালি সাহস ও মনোবল দিয়ে প্রতিহত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।
"উদ্দীপকটি 'আমার পরিচয়' কবিতার আংশিক প্রতিফলন মাত্র।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাঙালির জীবনের প্রতিটি বাঁকেই আছে সংগ্রামের এক-একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস। বিভিন্ন সময় বহিঃশত্রু তাদের আক্রমণ করেছে। সেই আক্রমণ তারা সাহস ও শক্তি দিয়ে প্রতিহত করেছে।
'আমার পরিচয়' কবিতায় বাঙালি জীবনের সংগ্রামী দিকটি বর্ণনার পাশাপাশি কবি বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন। বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিচয়ও পাওয়া যায় 'চর্যাপদ', 'গীতাঞ্জলি', 'অগ্নিবীণা', 'মহুয়ার পালা' প্রভৃতির মধ্য দিয়ে। বাঙালির অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, সাম্যবাদী মনোভাবও এখানে বাণীরূপ লাভ করেছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে আমরা বাঙালির বিদ্রোহী ও। সংগ্রামী জীবনের পরিচয় পাই। শত্রুর কালো থাবাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাঙালি নিজ ভূমিতে আপন মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।
সংগ্রাম, বিদ্রোহ, বিপ্লব বাঙালির সত্তায় মিশে আছে, ইতিহাসও সেই প্রমাণ দেয়। উদ্দীপক ও 'আমার পরিচয়' কবিতায় বাঙালি চরিত্রের এ দিকটি ফুটে উঠেছে। তবে আলোচ্য কবিতায় বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয়ও বিধৃত হয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা হয়েছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!